আলোচনায় ড. মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন এমবিই
স্থানীয় সরকার সংস্কারে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান
স্থানীয় সরকার সংস্কারে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান,
স্থানীয় সরকার সংস্কারে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার ব্যবহার কতটা জরুরি? আলোচনায় ড. মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন এমবিই
বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলার প্রশ্নটি আবারও আলোচনায় এসেছে। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা, নাগরিকসেবার মানোন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগ নিলে দেশি বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত বিশ্বের সফল স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজে লাগানো গেলে প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সেবার মান উন্নয়ন এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সহজ হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় কাজ করা প্রবাসী বাংলাদেশি ড. মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন এমবিই (মেম্বার অফ দ্যা অর্ডার অফ দ্যা ব্রিটিশ এম্পায়ার) আলোচনায় উঠে এসেছেন।
তিন দশকের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা
বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতে কর্মজীবন শেষে ১৯৯০ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান ড. ফয়েজ উদ্দিন। পরবর্তীতে তিনি বার্মিংহাম সিটি কাউন্সিলে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন এবং দীর্ঘ কর্মজীবনে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি কমিউনিটি উন্নয়ন, নাগরিক সম্পৃক্ততা, বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সামাজিক সম্প্রীতি, নেতৃত্ব বিকাশ, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং কৌশলগত পরিকল্পনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে কাজ করেছেন। স্থানীয় সরকার পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা উন্নয়নেও তিনি ভূমিকা রেখেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন।
কমিউনিটি পুলিশিং ও জনআস্থার অভিজ্ঞতা
ড. ফয়েজ উদ্দিন ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন। সেখানে কমিউনিটি পুলিশিং, জনগণ ও পুলিশের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি, সামাজিক সম্প্রীতি এবং স্থানীয় পর্যায়ে অপরাধ প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের পুলিশ-জনসম্পর্ক উন্নয়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে জননিরাপত্তা জোরদারে এ ধরনের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা মূল্যবান হতে পারে।
শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক উদ্যোগ
ড. ফয়েজ উদ্দিন নিউ হোপ গ্লোবাল এবং নিউ হোপ এডুকেশন সিআইসি-এর মাধ্যমে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তিমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছেন। পাশাপাশি দাতব্য প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা এবং কৌশলগত পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু স্থানীয় সরকার সংস্কার
স্থানীয় সরকার আধুনিকায়ন, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, আর্থিক স্বায়ত্তশাসন, ডিজিটাল জনসেবা, সুশাসন এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিয়ে ড. ফয়েজ উদ্দিন একাধিক গবেষণা, বই ও নীতিগত প্রস্তাবনা প্রণয়ন করেছেন।
তাঁর গবেষণায় যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন সফল দিক বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োগের সম্ভাব্য রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে প্রণীত এসব নীতিগত প্রস্তাব ভবিষ্যতের সংস্কার আলোচনায় সহায়ক হতে পারে।
রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে কাজের দাবি
ড. ফয়েজ উদ্দিনের দাবি, তিনি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে প্রশাসনিক সংস্কার, স্থানীয় সরকার আধুনিকায়ন, শিক্ষা, পুলিশ সংস্কার এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা নিয়ে মতবিনিময় করেছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে এসব বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং ২০১৮ সালের বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রাথমিক খসড়া প্রণয়নের কাজেও সম্পৃক্ত ছিলেন।
তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কি কাজে লাগাতে পারবে বাংলাদেশ?
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রশাসনিক সংস্কার ও রাষ্ট্র পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণের ইতিবাচক নজির রয়েছে। সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া এবং যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশ নীতি প্রণয়ন ও প্রশাসনিক আধুনিকায়নে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েছে।
জনপ্রশাসন বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশেও স্থানীয় সরকার সংস্কার, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং জনসেবার মানোন্নয়নে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্তি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকার যদি ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার সংস্কার বা প্রশাসনিক আধুনিকায়নের জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে, তাহলে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও মূল্যায়নের সুযোগ থাকা উচিত। সে ক্ষেত্রে ড. মোহাম্মদ ফয়েজ উদ্দিন এমবিই-এর মতো পেশাজীবীদের গবেষণা, নীতিগত চিন্তা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা বিবেচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে দেশের ভেতরে ও বাইরে কর্মরত দক্ষ মানবসম্পদের সমন্বিত ব্যবহারই হতে পারে অন্যতম শক্তি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত করা গেলে স্থানীয় সরকার, জনপ্রশাসন এবং জনসেবার মানোন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
Shamiur Rahman
