পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলি
আশুলিয়ায় নারীকে জিম্মি করে পালাল ‘শুটার বাপ্পি’
আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার চৌধুরী প্লাজায় এই ঘটনা ঘটে
আশুলিয়ায় পুলিশের সঙ্গে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘শুটার বাপ্পি’ ও তার সহযোগীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে তাদের সামনেই এক নারীকে জিম্মি করে পালিয়ে গেছে বাপ্পি।
আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার চৌধুরী প্লাজায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস্ ও ট্রাফিক উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
পুলিশ জানায়, জামগড়া এলাকায় শরীফ চৌধুরী নামের এক ব্যক্তির ভবনের কেয়ারটেকার লিমার কাছে চাঁদা দাবি করতে আজ সকাল ৭টার দিকে তিন সহযোগীসহ সেখানে আসে শীর্ষ সন্ত্রাসী বাপ্পী। ওই ভবনে বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছে—এমন তথ্য থাকায় জিম্মি লিমাকে নিয়ে বাপ্পী বিভিন্ন লকার খুলে টাকা খোঁজার চেষ্টা করে, কিন্তু কোনো টাকা পায়নি।

এরই মধ্যে ভবনের মালিকপক্ষ লিমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে না পেয়ে কোনো বিপদে আছেন এমন ধারণা থেকে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানার জামগড়া পুলিশের একটি দলসহ মোট তিনটি টিম ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ভবনের ভেতর থেকে লিমাকে সামনে ঢাল হিসেবে ধরে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে শুটার বাপ্পী। এ সময় পুলিশও জিম্মির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরিস্থিতির একপর্যায়ে জিম্মিকে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বাপ্পী।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'সন্ত্রাসীরা মোট চারজন এলেও ভবনের ভেতরে ছিল একজন (বাপ্পী)। সে ভেতর থেকেই পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। বাপ্পীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক মামলা রয়েছে। কারা এখানে এসেছিল, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ইতোমধ্যে আমরা পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।'
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, 'আমাদের সফলতা হচ্ছে আমরা সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় জিম্মিকে উদ্ধার করতে পেরেছি। এই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত ও বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি তখন গুলি করতাম বা তাকে আটকের চেষ্টা করতাম, তাহলে ওই নারীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ত। শুধু সেই কারণেই আর গুলি করা হয়নি।’
বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তিনি জানান, বাপ্পির অন্য সহযোগীদের ধরতে পুলিশ এখনো ভবনটি ঘিরে রেখেছে এবং সেখানে অভিযান চলছে।
পুলিশ জানায়, বাপ্পির বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগেও জামগড়া এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সঙ্গে গোলাগুলিতে লিপ্ত হয়েছিল বাপ্পির বাহিনী।
Shamiur Rahman
