চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন যশোর থেকে গ্রেফতার
বুধবার (২৯ জুলাই) বুধবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে সকাল ১০টায় তাদের চট্টগ্রাম পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ভারতে পালানোর সময় চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে তিন সঙ্গীসহ যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) বুধবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে সকাল ১০টায় তাদের চট্টগ্রাম পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একাধিক টিমের দীর্ঘদিনের নজরদারি ও অভিযানের ধারাবাহিকতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম।
তিনি বলেন, ‘বুধবার সকালে ডেভিড ইমনসহ তার আরও চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমি নিজেই অভিযানে আছি। যশোর থেকে তাদের নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছি।’
এসপি মাসুদ আলম আরও বলেন, ‘বুধবার ইমনের অন্যতম সহযোগী রায়হানকেও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে যায়।’
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মিরাজুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম পুলিশের রিকুইজিশন অনুযায়ী আজ ভোর পৌনে ৪টার দিকে যশোর ডিবি পুলিশ ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের ৯টি টিম যশোর সদর উপজেলার যশোর-ঢাকা মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অবস্থান নেয়। এসময় সেখানে চেকপোস্ট বসিয়ে তিন সঙ্গীসহ ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সকাল ১০টায় তাদেরকে চট্টগ্রাম পুলিশের জিম্মায় দিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই যশোর এসেছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। একসময় এলাকায় সাধারণ জীবনযাপন করলেও পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপে যোগ দেন তিনি। এরপর নগরীতে একাধিক হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধে তার নাম জড়ায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশি পিস্তল হাতে তার একাধিক ছবিও ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে সাজ্জাদ গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিতি পান ডেভিড ইমন। পরে দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে অবস্থান করেও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের ফোনে চাঁদা দাবি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদা না দিলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার এলাকায় ডিডিএন নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায়ও ডেভিড ইমনের নাম উঠে আসে। ১৩ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল ঢুকে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখানো হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এর আগে ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরবর্তী সময়ে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। এর দুই দিন পর ডিডিএনের কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। হামলার সিসিটিভি ফুটেজেও অস্ত্রধারী একটি দলকে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর করতে দেখা যায়।
হামলাকারীরা কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও কাচের দরজাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। এছাড়া অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এই ঘটনায় মামলা হওয়ার পর র্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেফতার করে। এর আগে গত বুধবার এক ব্রিফিংয়ে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সল আহম্মেদ জানিয়েছিলেন, ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্তে গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত টিম কাজ করছে। তাকে এবং এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান চলছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, ডেভিড ইমনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র, অস্ত্র সরবরাহ, চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক এবং বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রামে সক্রিয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক নির্মূলে অভিযান অব্যাহত থাকবে। ডেভিড ইমনের পাশাপাশি তার অন্যান্য পলাতক ও সক্রিয় সহযোগীদেরও আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
Shamiur Rahman
