টাঙ্গাইলে তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারের উদ্বোধন

আধুনিক প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে ফিরবে তাঁতশিল্পের ঐতিহ্য: প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম

শাহীন আব্দুল বারী প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২৬ ১১:২৬ পিএম

দক্ষ তাঁতি ও উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি কর্মসংস্থান, রপ্তানি ও কটন মিল পুনরায় চালুর আশ্বাস

টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং নতুন বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। এই লক্ষ্যে টাঙ্গাইলে নবনির্মিত তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার চালু করা হয়েছে। সরকারের আশা, এই কেন্দ্রের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের দক্ষ তাঁতি ও উদ্যোক্তা তৈরি হবে, বাড়বে কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক বাজারে টাঙ্গাইলের তাঁতপণ্যের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

শনিবার (১ আগস্ট) টাঙ্গাইলে কেন্দ্রটির উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।

তিনি বলেন, আধুনিক প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করে দেশের তাঁতশিল্পের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে সরকার কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, নবনির্মিত তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও বেসিক সেন্টার কেবল একটি অবকাঠামো নয়; এটি দক্ষ তাঁতি, কারিগর ও উদ্যোক্তা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখানে তাঁতিদের আধুনিক প্রযুক্তি, পরিবর্তিত ফ্যাশন, নতুন নকশা, পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, বাজার বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল বিপণন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তিনি জানান, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের শুধু সনদ দিয়েই বিদায় করা হবে না। তাঁদের দক্ষতা অনুযায়ী টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, নিটওয়্যার, স্পিনিং মিলসহ সংশ্লিষ্ট শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

টাঙ্গাইলের শাড়িকে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, গর্ব ও আবেগের প্রতীক উল্লেখ করে শরীফুল আলম বলেন, ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পণ্যের নকশা, মান, ব্র্যান্ডিং ও বিপণন ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন জরুরি। ‘এক গ্রাম, এক পণ্য—ফিরিয়ে আনব হারানো ঐতিহ্য’ কর্মসূচির আওতায় টাঙ্গাইলের শাড়িসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্য পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, জামদানি, টাঙ্গাইলের শাড়ি, বেনারসি, রেশমসহ দেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতপণ্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও পরিচিত করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ই-কমার্স ব্যবহারে তাঁতিদের দক্ষ করে তোলা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে রপ্তানিমুখী তাঁত, বস্ত্র, পাট ও ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য প্রদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তাঁতপণ্য রপ্তানিতে স্থলবন্দর ব্যবহারের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে রং, সুতা ও অন্যান্য কাঁচামাল আমদানির সুবিধা যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের পরিবর্তে প্রকৃত তাঁতিরা সরাসরি পান, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

তাঁতিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা, সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান এবং বাজারসংযোগ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এসময় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা টাঙ্গাইল কটন মিল পুনরায় চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মিলটি পরিদর্শন করেছেন। বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত মিলটি চালু করে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনার চেষ্টা চলছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে তাঁতিরা আধুনিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে উৎপাদিত পণ্যের মান ও বৈচিত্র্য বাড়াতে সক্ষম হবেন।

তিনি বলেন, সহজ শর্তে ঋণ, কাঁচামাল সংগ্রহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কার্যকর বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করা গেলে টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্প আরও শক্তিশালী হবে। এ শিল্পের টেকসই উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত