ওমরাহ করতে সৌদি আরব যাওয়ার পথে গ্রেপ্তার সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি ডন

শাহীন আব্দুল বারী প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৪৬ পিএম

দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন চলচ্চিত্র অভিনেতা ডন হক; বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন শেষ করার পর আটক

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার চার নম্বর আসামি ও খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়।রোববার (৯ আগস্ট) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

সিআইডি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন ডন হক। সম্প্রতি তিনি সৌদি আরবে গিয়ে ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা করেন। সেই উদ্দেশ্যে রোববার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সময় তার পরিচয় শনাক্ত হলে তাকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে বিষয়টি সিআইডিকে জানানো হয়। খবর পেয়ে সিআইডির একটি দল বিমানবন্দরে গিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহ হত্যা মামলা করেন তার মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খল চরিত্রের অভিনয়শিল্পী ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।

ডনকে গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্তে কোনো অগ্রগতি হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জসীম উদ্দিন খান বলেন, “বর্তমানে মামলাটি সিআইডি অধিকতর তদন্ত করছে। নিশ্চয়ই মামলার অগ্রগতি হবে।”

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

মামলা দায়েরের পর আদালত আসামিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে রিকুইজিশন পাঠিয়ে এজাহারে নাম থাকা আসামিদের দেশত্যাগে বাধা দেওয়ার অনুরোধ জানান।

তবে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর ডন হক কীভাবে বিমানবন্দরে পৌঁছালেন এবং তার দেশত্যাগের চেষ্টা সম্পর্কে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে কী ধরনের তথ্য ছিল—এসব বিষয়ও তদন্তের অংশ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

২৯ বছর পর হত্যা মামলা

বাংলা চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে হত্যা মামলা করা হয়। ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এ বিষয়ে আদেশ দেন।

এর আগে সালমান শাহর মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে একাধিক সংস্থা তদন্ত করে। সর্বশেষ দীর্ঘদিন তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত শেষে সংস্থাটি সালমান শাহর মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত বলে প্রতিবেদন দেয়।

তবে পিবিআইয়ের সেই প্রতিবেদন মেনে নেয়নি সালমান শাহর পরিবার ও তার অসংখ্য ভক্ত। তাদের দাবি ছিল, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি; তার মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে।

এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত গত বছরের ২১ অক্টোবর সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১১ জনকে আসামি করা হয়।

বর্তমানে মামলাটি অধিকতর তদন্ত করছে সিআইডি। ডন হকের গ্রেপ্তারকে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য, মামলার অন্যান্য আসামিদের ভূমিকা এবং সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত