উত্তরখানে ‘ডাবল নকশা’ বাণিজ্য ⊕ ছাড়পত্রে লাখ টাকা আদায় ⊕ বিপুল সম্পদের তথ্য ফাঁস

রাজউকের পলাশ শিকদারের বিরুদ্ধে নকশা জালিয়াতি ও দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৪৫ পিএম

উত্তরখানে ‘ডাবল নকশা’ বাণিজ্য, ছাড়পত্রে লাখ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ; বিভাগীয় তদন্ত ও দুদকের অনুসন্ধানে বিপুল সম্পদের তথ্য—অভিযোগ অস্বীকার পলাশের

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ—রাজউক। পরিকল্পিত নগরায়ণ, ভবনের নকশা অনুমোদন, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রসহ রাজধানীর আবাসন ও নির্মাণ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এ প্রতিষ্ঠানের ওপর। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানেরই এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উঠেছে নকশা জালিয়াতি, অবৈধ অর্থ আদায়, ক্ষমতার অপব্যবহার, অফিসে অনুপস্থিতি এবং বিপুল সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন রাজউকের কর্মকর্তা পলাশ শিকদার। তার বিরুদ্ধে উত্তরখানসহ রাজউকের বিভিন্ন এলাকায় নকশা অনুমোদন, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র এবং বাণিজ্যিক ভবনের অনুমোদনকে ঘিরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট পরিচালনারআ অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে বিভিন্ন সেবা পেতে গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হতো।

শুধু মাঠপর্যায়ের অভিযোগ নয়, পলাশ শিকদারের বিরুদ্ধে রাজউকের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত তদন্ত এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধানও হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এসব অনুসন্ধানে তার সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, পলাশ শিকদার উত্থাপিত এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে বলছেন, এসব তথ্য “সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন” এবং এসবের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

স্বরূপকাঠির বাড়িতে কেন ফেরেন না পলাশ?

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, পলাশ শিকদারের পৈতৃক বাড়ি পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির গুয়ারেখা ইউনিয়নে। তার বাবা আব্দুর রব সিকদার ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পলাশ শিকদার ২০১৬ সালে রাজউকে চাকরিতে যোগ দেন। এর আগে লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে পলাশ নিজ এলাকায় আর প্রকাশ্যে আসেননি। কেন তিনি বাড়িতে আসছেন না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, এলাকায় তার দীর্ঘদিনের প্রভাব ও অনুসারীদের কারণে সাধারণ মানুষ এখনও তার বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না।

স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, একসময় পলাশের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একটি দল এলাকায় সক্রিয় ছিল। তাদের ভাষায়, এই প্রভাবের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইতেন না। তবে এসব স্থানীয় অভিযোগ স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্ত্রীর নির্বাচনেও কোটি টাকা ব্যয়ের অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, পলাশের বাবা আব্দুর রব সিকদার চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় মারা যাওয়ার পর একই পরিবারের মধ্যে চেয়ারম্যান পদটি ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়। এর অংশ হিসেবে পলাশের স্ত্রী ফারজানাকে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করা হয়।

স্থানীয়ভাবে জনশ্রুতি রয়েছে যে, মনোনয়ন নিশ্চিত করতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের প্রভাববলয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল। এমনকি ওই নির্বাচনে পলাশের পক্ষ থেকেও দুই থেকে তিন কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল বলেও স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেন। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে ফারজানা পরাজিত হন।

এখন স্থানীয়দের প্রশ্ন—একজন সরকারি চাকরিজীবীর পক্ষে এত বিপুল অর্থের উৎস কী?

তাদের আরও প্রশ্ন, পলাশের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রির কোনো দৃশ্যমান তথ্য না থাকলে তার নিজ এলাকায় নির্মাণাধীন বিলাসবহুল বাড়ি এবং রাজধানীকেন্দ্রিক সম্পদের উৎস কী?

‘ডাবল নকশা’—উত্তরখানে অভিযোগের সবচেয়ে বড় অধ্যায়

রাজউককে ঘিরে পলাশ শিকদারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে ‘ডাবল নকশা’। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে রাজউকের মূল নথিতে একটি নকশা অনুমোদিত থাকলেও গ্রাহকের হাতে ভিন্ন নকশা তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতো। এর মাধ্যমে রাস্তা, জলাশয় কিংবা বিধিবহির্ভূত জায়গায় নির্মাণের সুযোগ তৈরি করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ফাইলের বিপরীতে প্রায় এক কোটি টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রমতে, পলাশ শিকদারের সঙ্গে মোবারক ও মাহাবুব নামের দুই ব্যক্তির একটি চক্র এই কাজে যুক্ত ছিল। তাদের মাধ্যমে উত্তরখান এলাকায় দীর্ঘদিন একটি প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রেও লাখ লাখ টাকা!

রাজউকের গুরুত্বপূর্ণ সেবা ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র নিয়েও পলাশের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে এই সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে ফাইল আটকে রেখে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হতো।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিটি ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্রের জন্য ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থ দাবি করা হতো। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইলে নানা ধরনের আপত্তি তুলে সেটি দীর্ঘদিন আটকে রাখা হতো।

ফলে সময় ও অর্থের ক্ষতি এড়াতে অনেক গ্রাহক বাধ্য হয়ে দালালচক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাণিজ্যিক নকশায় ২০ থেকে ৫০ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ

বাণিজ্যিক ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। আবাসন ব্যবসায়ী ও ভবন মালিকদের অভিযোগ, সরকারি ফি দেওয়ার পরও পলাশের নিয়ন্ত্রণাধীন চক্রের দাবি পূরণ না হলে ফাইল এগোত না।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি বাণিজ্যিক নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে ২০ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থ দাবি করা হতো।

অভিযোগকারীদের দাবি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে নকশায় গুরুতর ত্রুটি থাকলেও অর্থের বিনিময়ে অনুমোদনের পথ তৈরি করা হয়েছে। এ ধরনের অনিয়ম শুধু আর্থিক দুর্নীতি নয়, রাজধানীর নিরাপদ ও পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অফিসে অনুপস্থিতি, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

পলাশ শিকদারের বিরুদ্ধে শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগও রয়েছে।

রাজউকের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত তদন্তে তার নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

অভিযোগ রয়েছে, সপ্তাহের অধিকাংশ দিন কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নিজের অবস্থান শক্ত রাখতেন তিনি। এতে সাধারণ গ্রাহকদের ফাইল পড়ে থাকত এবং সেবা পেতে তাদের দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হতো।

এমন অভিযোগের পাশাপাশি উচ্চপর্যায়ে তদবির ও লবিংয়ের মাধ্যমে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সামাল দেওয়ার চেষ্টার কথাও তদন্তসংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন বলে জানা গেছে।

ওএসডি—তারপর দুদকের অনুসন্ধান

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, প্রাপ্ত অভিযোগ আমলে নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পলাশ শিকদারকে রাজউকের মূল দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান শুরু হয় বলে জানা গেছে।

দুদকের অনুসন্ধানে তার নিজের নামে এবং পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদ ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

পলাশ শিকদারকে একাধিকবার নোটিশ দিয়ে সম্পদের হিসাব চাওয়া এবং দুদক কার্যালয়ে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

স্ত্রী ও বোনের ব্যাংক হিসাবেও নজর

দুদকের অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পলাশ শিকদারের পাশাপাশি তার স্ত্রী ও বোনের নামে থাকা একাধিক ব্যাংক হিসাবের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।

এসব হিসাবের লেনদেন পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে বলেও সূত্রটি জানায়।

অভিযোগ রয়েছে, সম্পদের প্রকৃত উৎস ও আয়-ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তার সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন আরও গভীরভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

তবে ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ বা কোনো সম্পদ জব্দের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক আদেশের কপি ছাড়া চূড়ান্ত দাবি করা সমীচীন নয়।

ডুপ্লেক্স বাড়ি, দামি গাড়ি ও জমি নিয়ে প্রশ্ন

দুদকের অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পলাশ শিকদারের নামে বা তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি, একটি টয়োটা হ্যারিয়ার গাড়ি এবং রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় একাধিক জমির তথ্য পাওয়া গেছে।

এসব সম্পদের বৈধ উৎস, ক্রয়মূল্য এবং ঘোষিত আয়-সম্পদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—তা যাচাই করছে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।

অভিযোগ রয়েছে, সম্পদের মালিকানা ও হস্তান্তর ঠেকাতে আইনগত প্রক্রিয়ায় সম্পত্তি ক্রোক বা সংযুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

তবে এই বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত আদেশ বা আনুষ্ঠানিক নথি ছাড়া কোনো সম্পদকে ‘অবৈধ সম্পদ’ হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা যাচ্ছে না।

বিভাগীয় মামলাও হয়েছে

পলাশ শিকদারের বিরুদ্ধে নকশা জালিয়াতি, সরকারি দায়িত্বের অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অভিযোগগুলোর তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টদের মতে, রাজউকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুরো নেটওয়ার্কের ভূমিকা খতিয়ে দেখা জরুরি।

‘সব অভিযোগ মিথ্যা, রিপোর্ট করলে মামলা করব’—পলাশ

অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে পলাশ শিকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেন।

তিনি বলেন, প্রতিবেদনের জন্য নিয়ে যাওয়া তথ্য “সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন”। এসব অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

পলাশ আরও বলেন, এসব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেবেন।

রাজউকে পলাশের ‘সাম্রাজ্য’ কতটা বিস্তৃত?

পলাশ শিকদারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাপ্তি শুধু একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সীমাবদ্ধ নয়। অভিযোগগুলো সত্য হলে এর সঙ্গে রাজউকের নকশা অনুমোদন, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, মাঠপর্যায়ের দালালচক্র এবং সংশ্লিষ্ট আরও কর্মকর্তার ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

কারণ একজন কর্মকর্তার পক্ষে এককভাবে বছরের পর বছর এত বড় পরিসরে নকশা অনুমোদন, ছাড়পত্র ও আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কি না—সেটিও এখন বড় প্রশ্ন।

তাই পলাশ শিকদারের বিরুদ্ধে চলমান বিভাগীয় তদন্ত ও দুদকের অনুসন্ধানের পাশাপাশি তার কথিত সহযোগীদের ভূমিকা, সম্পদের উৎস, ব্যাংক লেনদেন, নকশা অনুমোদনের নথি এবং সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।

রাজউকের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগের প্রকৃত সত্য উদঘাটন শুধু একজন কর্মকর্তার জবাবদিহির বিষয় নয়; এটি রাজধানীর পরিকল্পিত নগরায়ণ, নাগরিক নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থার প্রশ্নও।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত