মঈনুল হাসানকে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত
সওজের প্রধান প্রকৌশলী হলেন মো: মনিরুজ্জামান
১১ আগস্ট (মঙ্গলবার) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সংস্থাপন-১ শাখার উপসচিব তাসলিমা আহমেদ পলি স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
১১ আগস্ট (মঙ্গলবার) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সংস্থাপন-১ শাখার উপসচিব তাসলিমা আহমেদ পলি স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সওজের পরিবহন ও নিরাপত্তা উইংয়ে কর্মরত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে আদেশটি জারির পর থেকেই কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে মনিরুজ্জামানের বর্তমান কর্মস্থল হিসেবে সড়ক ভবন, তেজগাঁও, ঢাকার সওজের সংশ্লিষ্ট উইংয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর নতুন দায়িত্ব হিসেবে সওজের প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, ১৮ ব্যাচের কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে অধিদপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্বে কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
চলতি মাসের ৮ আগস্ট বগুড়ায় সওজের একটি অনুষ্ঠানে তাঁকে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। এর আগে তিনি নরসিংদী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
উল্লেখ্য, ১১ আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, সওজের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় এবং মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের বিভিন্ন শাখায় পাঠানো হয়েছে।
একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাবশালী মহলের সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও প্রাথমিক অনুসন্ধানে এর সত্যতা নিশ্চির হওয়া যায়নি।
এদিকে, মো: মনিরুজ্জামানই সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন; এমন তথ্য গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে শুরু হয় নেতিবাচক প্রচারণা। এমনকি এই পদায়ন রুখতে তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডার জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের নানা অভিযোগ করা হলেও বাস্তবিক অর্থে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ের সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ, উন্নয়ন, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অন্যতম প্রধান সরকারি সংস্থা। ফলে অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর পদটি সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন দায়িত্ব গ্রহনের পর মনিরুজ্জামানকে চলমান সড়ক ও মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমও জোরদার করতে হবে। একইসঙ্গে প্রকল্পের মান ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা এবং অধিদপ্তরের প্রশাসনিক ও কারিগরি কার্যক্রমে সমন্বয় সাধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ন্যস্ত থাকবে।
তবে, মনিরুজ্জামানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের যে কোনও বদলি-পদায়ন শতভাগ বিতর্কমুক্ত রাখা, প্রকল্প অনুমোদন, দরপত্র মূল্যায়ন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ানুবর্তিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, ঠিকাদারদের কাজের মান নিয়ন্ত্রণ করা এবং সওজের বিশাল উন্নয়ন বাজেটের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
মঈনুল হাসানকে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত

সওজের প্রধান প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্বে থাকা সৈয়দ মঈনুল হাসানকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে (১১ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব), গ্রেড-৩ হিসেবে উল্লেখ করে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
মঈনুল হাসান ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাকালীন ১৮তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন।
পরবর্তীতে, ২০২৩ সালের ২ জুলাই সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে, তিনি সওজের পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন।
বিশেষজ্ঞ মহলের ভাষ্যমতে, মনিরুজ্জামানের নতুন দায়িত্ব গ্রহণ এবং মঈনুল হাসানকে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত করার মধ্য দিয়ে সওজের শীর্ষ নেতৃত্বে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয় হচ্ছে, নতুন প্রধান প্রকৌশলী অভিযোগ ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে কতোটা আন্তরিকতার সাথে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে পারেন
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মতো হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে তাঁর প্রতিটি সিদ্ধান্তই এখন নজরদারির মধ্যে থাকবে। বিশেষ করে টেন্ডার, প্রকল্প বাস্তবায়ন, ঠিকাদার নির্বাচন ও কাজের মান নিয়ন্ত্রণে তাঁর কার্যক্রমই বলে দেবে, নতুন নেতৃত্ব সওজকে কোন পথে নিয়ে যাচ্ছে।
Shamiur Rahman
