মায়ের কোলে সন্তানের লাশ অত্যন্ত মর্মান্তিক এক ঘটনা

আজ মনে পড়ছে কোকোকে

শাহীন আব্দুল বারী প্রকাশিত: ১২ আগস্ট ২০২৬ ০৪:১১ পিএম

কিছু মানুষ চলে যান, কিন্তু তাঁদের স্মৃতি থেকে যায় মানুষের হৃদয়ে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন তেমনই একজন মানুষ

কিছু মানুষ চলে যান, কিন্তু তাঁদের স্মৃতি থেকে যায় মানুষের হৃদয়ে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ ছেলে আরাফাত রহমান কোকো ছিলেন তেমনই একজন মানুষ।

আজ ৫৭তম জন্মদিন তার। ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট জন্ম নেওয়া আরাফাত রহমান কোকো ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মালয়েশিয়ায় ইন্তেকাল করেন। এমন দিনে তাই খুব বেশী মনে পড়ছে সবার প্রিয় কোকো ভাইকে।

ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সাধারণ ও অন্তর্মুখী স্বভাবের এই মানুষটি নীরবে কাজ করতেই বেশী স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন। পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের কারণে আলোচনায় থাকলেও বরাবরই প্রচারের আলো থেকে নিজেকে দূরে রাখতেন।

কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস—মাত্র ৪৫ বছর বয়সে ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি আমাদের ছেড়ে চলে যান তিনি। সেদিন সবচেয়ে পীড়াদায়ক দৃশ্য ছিলো 'মায়ের কোলে সন্তানের লাশ’ দেখা। এর চেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা আর হয় না। এটি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বিয়োগান্তক ঘটনা।

এমন এক পরিবেশে, এমন এক পরিস্থিতিতে তিনি পৃথিবী থেকে চলে গেলেন, যা মেনে নেয়া ছিলো অত্যন্ত কষ্টের। এই যাওয়াটাও ফ্যাসিবাদের এক চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশের মুখেই। তিনি আর নিজেকে ধাতস্থ করতে পারেননি, নিজেকে আর সামলাতে পারেননি। হৃদরোগের রোগী ছিলেন, অসুস্থতা ছিল। হৃদরোগের এই পরিস্থিতিতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি পৃথিবী থেকে চলে গেলেন।

কোকোর মরদেহ দেশে আসার সময় খালেদা জিয়া ছিলেন বন্দিনী এক মা, যাকে বালির ট্রাক, কাঠের ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিলো। তার চোখের অপারেশন করায় সেখানে ছিলো গভীর ক্ষত। ঠিক সেই মুহূর্তে গোলমরিচের স্প্রে করে তাকে আরও অসুস্থ করে বন্দি করে রাখা হয়। এমন কঠিন এক মুহূর্তে আপন সন্তানের লাশ তার কোলে তুলে দেওয়া হয়েছে।

একটি পরিবারকে নানাভাবে পর্যদস্তু করার জন্য, জনগণের মধ্যে সেই পরিবারের যে উপস্থিতি এবং যে জনপ্রিয়তা, সেটিকে মুছে দেওয়ার জন্য এমন কোনো কৌশল নেই যেটা করেননি সাবেক পলাতক স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা। কলঙ্ক লেপন করেছেন, অপপ্রচার করেছেন, মিথ্যাচার করেছেন। অথচ এর একটিও তিনি প্রমাণ করতে পারেননি।

এমন অসময়ে কোকোর চলে যাওয়া শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্যও ছিল এক অপূরণীয় ক্ষতি। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ এবং স্বপ্নবাজ এক মানুষ ছিলেন তিনি। ক্রীড়াঙ্গনে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

দেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে তাঁর যে আন্তরিকতা, উদ্যোগ ও অবদান ছিল, তা আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশেষ করে ক্লাব ক্রিকেট ও জাতীয় ক্রিকেট দলের সার্বিক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা আজও ক্রীড়াঙ্গনের মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

জন্মদিন উপলক্ষে আজ বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন বিএনপি ও এর সকল অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও তার স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

এর আগে, বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর কবরে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সহ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। 

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য রেজাউর করিম ফাহিম, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ইসরাফিল খসরু, বিএনপি নেতা কামাল জামাল মোল্লাসহ আরও অনেকেই।

আজ তাঁর জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি প্রিয় কোকো ভাইকে। মহান রাব্বুল আলামীন মরহুমকে ক্ষমা করুন এবং তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত