কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ল'অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের উদ্যোগে
সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক মো: আলীকে সংবর্ধনা
১লা জুলাই রাতে সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এ.এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি
সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক মো: আলীকে গনসংবর্ধনা
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলীকে সংবর্ধনা দিয়েছে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ল'অ্যালামনাই এসোসিয়েশন।
গতকাল ১লা জুলাই রাতে সুপ্রিম কোর্ট অডিটোরিয়ামে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এ.এম. মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের সমাজে, ইতিহাসে-ঐতিহ্যে ন্যায়বিচার সম্পর্কে যে ধারণা রয়েছে, সেই ন্যায়বিচারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
তিনি বলেন, আর এই ন্যায়বিচার সুপ্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব বিশেষ করে তরুণ আইনজীবীদের। আমরা দেখেছি শেখ হাসিনার আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আদালতের রায় আসতো। সেই পরিস্থিতি অব্যাহত রাখা যাবে না। ন্যায়বিচারকে ন্যায়বিচার হিসেবেই নিশ্চিত করতে হবে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমাদের বরেণ্য আইনজীবীদের কেউই শেখ হাসিনার বিষাক্ত ছোবল থেকে, কালো থাবা থেকে মুক্তি পায়নি। তবুও সেই কঠিন সময়ে আইনজীবীরা গণতন্ত্রের প্রহরী হিসেবে কাজ করেছে। কারণ, আইনজীবীদের সমুজ্জ্বল উপস্থিতি এই আদালত প্রাঙ্গণে না থাকলে শেখ হাসিনাকে দুর্বল করা যেত না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী সুশাসনের জন্য, রুল অব ল' প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন এবং কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যেকটি কাজের মধ্যে আমি আইনের শাসনের বহিঃপ্রকাশ দেখছি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি বলেন, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা ছাড়া আইনের শাসন আমরা আশা করতে পারি না। যেকোনো দেশের পরিস্থিতি বোঝা যায় সেই দেশের বিচার ব্যবস্থা কিরকম তা দেখে। দেশের বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন থাকে, দুর্নীতিমুক্ত থাকে তাহলে সেই দেশ দ্রুত এগিয়ে যায়। দেশের বিচার বিভাগ, গণতন্ত্র, আইনের শাসন মানবাধিকার রক্ষায় আমরা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি কাজ করে যাবো।
অনুষ্ঠানে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার মো: বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, আমাদের এই সরকারের সামনে দুর্গম পথ। ডানে ফ্যাসিস্ট, বামে সুপ্ত-গুপ্ত আর পিছনে জুলাই চেতনা। এই সব মিলিয়েই সরকারকে এগোতে হচ্ছে।
এই সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে না উল্লেখ করে ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, আসলাম চৌধুরী সরকারি দলের এমপি হিসেবে পাস করে এসে শপথ নিতে পারলো না। দল থেকে বা সরকার থেকে কেউ এটা নিয়ে কোনো আজেবাজে সমালোচনা করেনি। কারণ এই সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতার প্রতি বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করে না। বিচার বিভাগ যে স্বাধীন মতো চলছে এটাই তার নমুনা। আজ থেকে যদি এই দেড় বছর আগে অর্থাৎ ৫ আগস্টের আগে এটা হলে আপিল বিভাগের সবাইকে দেশ ছাড়া লাগতো।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ সফিউর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আবু জাফর খান ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. রইস উদ্দিন প্রমুখ।
আজকের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ল' অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
এই অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই এসোসিয়েশন এর সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসেন শিপন, সাধারণ সম্পাদক এস এম মিজানুর রহমান, আইন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ সহ অন্যান্য অ্যালামনাইরা।
অ্যাডভোকেট জাকারিয়া হায়দারের সভাপতিত্বে এবং ল' অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার ফরিদের পরিচালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন অ্যাডভোকেট কোয়েল ও অ্যাডভোকেট জীবন। উক্ত অনুষ্ঠানে আনুমানিক পাঁচ শতাধিক অ্যালামনাই অংশগ্রহণ করেছিলেন।
Shamiur Rahman
