কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ)-এ সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি; নেপথ্যে ২ কর্মকর্তা ও ১ বহিরাগত

বিশেষ প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০২৬ ০৮:২৮ পিএম

সম্প্রতি, এই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের উচ্চমান সহকারী ও বর্তমানে কমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) টুটুল সরকার, কম্পিউটার অপারেটর আব্দুল্লাহ আল যুবায়ের এবং বহিরাগত ব্যক্তি মো. আজগর আলী সিন্ডিকেট করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করছেন। মূলত বহিরাগত মো. আজগর আলীকে ব্যবহার করে এই চক্রটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ স্থ

কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ)-এর ২ কর্মকর্তা ও ১ বহিরাগত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, ফাইল নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা এবং ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। সেবাগ্রহীতাদের দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ফাইল নিষ্পত্তি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে, যার ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

সম্প্রতি, এই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি অভিযোগ জমা পড়েছে। একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের উচ্চমান সহকারী ও বর্তমানে কমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) টুটুল সরকার, কম্পিউটার অপারেটর আব্দুল্লাহ আল যুবায়ের এবং বহিরাগত ব্যক্তি মো. আজগর আলী সিন্ডিকেট করে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করছেন। মূলত বহিরাগত মো. আজগর আলীকে ব্যবহার করে এই চক্রটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ স্থাপন এবং ঘুষের লেনদেন পরিচালনা করছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বর্তমানে কমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী টুটুল সরকারের নির্দেশনায় বিভিন্ন ফাইলের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। একই সঙ্গে কম্পিউটার অপারেটর আব্দুল্লাহ আল যুবায়ের এবং বহিরাগত মোঃ আজগর আলীও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, অফিসজুড়ে একটি অঘোষিত প্রভাববলয় গড়ে উঠেছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করা হয়। বর্তমানে আব্দুল্লাহ আল যুবায়ের বন্ড সার্কেল ৩০-৩১ এবং জনপ্রশাসন শাখার দায়িত্বে রয়েছেন। এসব সার্কেলের আওতায় দেশের প্রায় ৩০৬টি বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, কোনো সেবা নিতে আব্দুল্লাহ আল যুবায়েরের কাছে গেলে তিনি মোঃ আজগর আলীর মাধ্যমে টুটুল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। এরপর ফাইল নিষ্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে আর্থিক লেনদেনের প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে তারা দাবি করেন। অভিযোগকারীদের মতে, নির্ধারিত অর্থ প্রদান করা হলে ফাইল দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়, অন্যথায় বিভিন্ন জটিলতা ও বিলম্বের সম্মুখীন হতে হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, টুটুল সরকারের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। তার নামে কেরানীগঞ্জে বহুতল বাড়ি, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ফ্ল্যাট ও জমি রয়েছে। দুদকে একাধিক মামলা থাকলেও তিনি প্রকাশ্যেই ঘুষ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সম্পদের উৎস এবং সম্পত্তি অর্জনের বিষয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া পদায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ শোনা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সেবাগ্রহীতা জানান, সম্প্রতি একাধিক গনমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট, ঢাকা (দক্ষিণ)-এর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে ‘রাফায়েত ফেব্রিক্স’ ও ‘এস ইসলাম হোম অ্যান্ড ফ্যাশন লিমিটেড’ নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের রাজস্বসংক্রান্ত অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল। উক্ত অনিয়মের সাথে সিন্ডিকেট তৈরি করা এই তিন জনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানান।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ফাইলের ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা আদায়ের একটি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে এবং পুরো বিষয়টি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ সেবাগ্রহীতারা। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তবে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত