ব্রাজিলে গ্রেফতারের পর বাংলাদেশি মানবপাচারকারী সাইফুল্লাহকে যুক্তরাষ্ট্রে সোপর্দ

নিউজ ডেস্ক প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২৬ ০২:০৫ পিএম

২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাজিলের সাও পাওলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ব্রাজিলের পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। পরে দুই দেশের বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় ৮ জুলাই ব্রাজিল সরকার তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করে

বাংলাদেশ থেকে ব্রাজিল হয়ে মেক্সিকো সীমান্ত ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে মানবপাচার চক্রের অন্যতম সদস্য হিসেবে অভিযুক্ত বাংলাদেশি সাইফুল্লাহ আল-মামুন। (৩৯। ব্রাজিল থেকে গ্রেফতারের পর তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) তাকে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লারেডো ফেডারেল আদালতে হাজির করা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, মাথাপিছু ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রথমে ব্রাজিলে নেওয়া হতো। পরে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার বিভিন্ন দেশ হয়ে তাদের মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হতো। সেখান থেকে রিও গ্র্যান্ডে নদী পার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ব্যবস্থা করত পাচারচক্র।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া চক্রের দুই সদস্য মোহাম্মদ মিলন হোসেন (৪৬) ও মোক্তার হোসেন (৩৮) তদন্তকারীদের কাছে আল-মামুনের সম্পৃক্ততার তথ্য দেন। এর ভিত্তিতে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর ব্রাজিলের সাও পাওলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে ব্রাজিলের পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। পরে দুই দেশের বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় ৮ জুলাই ব্রাজিল সরকার তাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করে।

ব্রাজিলিয়ান ফেডারেল পুলিশ বলছে, ২০১৩ সালে শরণার্থী হয়ে ব্রাজিলে যাওয়া মামুন বিশ্বের কয়েকজন বড় মানবপাচারকারীর একজন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি দেশি নাগরিকদের সাও পাওলোতে নিয়ে মানবপাচারকারী গোষ্ঠীর মাধ্যমে ব্রাজিল, পেরু, ইকুয়েডোর, কলম্বিয়া, পানামা, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়ে, হন্ডুরাস, গুয়েতেমালা ও মেক্সিকো হয়ে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশের সুযোগ করে দেন।

এর আগে, একই মামলায় দোষ স্বীকার করায় মিলন হোসেন ও মোক্তার হোসেনকে টেক্সাসের ফেডারেল আদালত ৪৬ মাস করে কারাদণ্ড দেন। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, আল-মামুনের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে মানবপাচারের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার ৫ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

বিচার বিভাগ আরও জানায়, আন্তর্জাতিক মানবপাচারবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স আলফা-এর সমন্বয়ে এ পর্যন্ত বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ৪৬৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪১৪ জন বিভিন্ন মেয়াদের সাজা পেয়েছেন এবং ৩৬০ জনের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হয়েছে। কয়েকজনের সম্পদও জব্দ করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এই পাচারচক্রের আরও কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের নোয়াখালী, সিলেট ও ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত