নাগরিক সমাজকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য
জলবায়ু ন্যায়বিচার ও পরিবেশ সুরক্ষায় ১৮ তৃণমূল সংগঠনকে সহায়তা দিবেইইউ
রবিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত জাতীয় কর্মশালার মাধ্যমে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষা এবং পরিবেশগত সুশাসন নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এই উদ্যোগের আওতায় দেশের ১৮টি তৃণমূল সংগঠনকে সরাসরি সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রকল্পের মাধ্যমে নির্বাচিত সংগঠনগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নীতিগত প্রচার কার্যক্রম, তথ্যভিত্তিক গবেষণা, মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ, নেটওয়ার্কিং এবং পরিবেশগত সুশাসনে অংশগ্রহণের দক্ষতা উন্নয়নে সহায়তা করা হবে। এর মাধ্যমে জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাদের কার্যকর ভূমিকা আরও জোরদার করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রবিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত জাতীয় কর্মশালার মাধ্যমে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফে। সহযোগী হিসেবে রয়েছে এডুকো, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এবং উত্তরণ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের প্রতিনিধি এডউইন কোকেক।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাকারিয়া, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ সাফিউল্লাহ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম।
এছাড়াও, সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, তরুণ নেতা, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, শুধু প্রকল্প গ্রহণ নয়, বাস্তব ফলাফল নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ধারাবাহিক সহযোগিতার প্রশংসা করে বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণ ও জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ইতিবাচক যেকোনো উদ্যোগে সরকার সহযোগিতা করবে।
বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রতিনিধি এডউইন কোকেক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।
ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফে বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জোনাস উইয়াল বলেন, অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, পারস্পরিক আস্থা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব। প্রকল্পের সফলতা শুধু কার্যক্রমের মাধ্যমে নয়, অংশীদারিত্বের শক্তির মাধ্যমেও মূল্যায়ন করা হবে।
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, জলবায়ু ন্যায়বিচারের মতো জটিল লক্ষ্য কোনো একক সংস্থা বা দাতার পক্ষে অর্জন করা সম্ভব নয়। এজন্য নাগরিক সমাজ, স্থানীয় সরকার এবং জনগণের সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন কেবল পরিবেশগত সংকট নয়; এটি মানবাধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমতারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে নীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তার জন্য ১৮টি তৃণমূল সংগঠন নির্বাচন করা হবে। এসব সংগঠনের মধ্যে নারী নেতৃত্বাধীন, আদিবাসী, দলিত এবং যুব সংগঠনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্যভিত্তিক গবেষণা, জলবায়ু-সম্পর্কিত মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ, নীতিগত প্রচার কার্যক্রম এবং পরিবেশগত সুশাসনে অংশগ্রহণের সক্ষমতা উন্নয়নে সহায়তা প্রদান করা হবে।
বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, স্থানীয় নেতৃত্ব, লিঙ্গ সমতা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্পটি পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাবভোগী জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বর নীতিনির্ধারণ পর্যায়ে আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশে জলবায়ু সহনশীল ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়নের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।
Shamiur Rahman
