ইস্টার্ন হাউজিংয়ের স্বেচ্ছাচারী আচরণে ক্ষোভে ফুসছে এলাকাবাসী
আফতাবনগর–আলিফনগর সংযোগ সড়ক দ্রুত খুলে দেয়ার দাবি
দ্রুত সড়কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত না করা হলে জনঅসন্তোষ আরও বাড়বে এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে
রাজউকের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃক নির্মিত ৩০ ফুট প্রশস্থ আফতাবনগর–আলিফনগর সংযোগ সড়ক বন্ধ করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বাড্ডা এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজউকের ঢাকা ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) অনুযায়ী অনুমোদিত এই সরকারি সংযোগ সড়কে দেয়াল ও গেট নির্মাণ করে জনসাধারণের চলাচল বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এতে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগের তীর ইস্টার্ন হাউজিং কর্তৃপক্ষের দিকে। তাদের দাবি, কোনো ধরনের জনশুনানি বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান অনুমতি ছাড়াই জনসাধারণের ব্যবহৃত সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন, স্মারকলিপি প্রদান এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সড়কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত না করা হলে জনঅসন্তোষ আরও বাড়বে এবং যেকোনো সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
সম্প্রতি বাড্ডা, আফতাবনগর, আলিফনগর ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করে 'দ্য ফিন্যান্স টুডে'র একটি অনুসন্ধানী দল। পরিদর্শনের সময় স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এফটি টীমের কাছে দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে দ্রুত সড়কটি উন্মুক্ত করতে গনমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আফতাবনগর ও আলিফনগর—উভয় এলাকাই বাড্ডা থানার আওতাভুক্ত। প্রায় চার দশক ধরে এই সংযোগ সড়ক ব্যবহার করে হাজারো মানুষ স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত, হাসপাতাল ও বাজারে যাতায়াত করে আসছেন। কিন্তু সড়কটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে, যার ফলে সময় ও অর্থ—উভয়েরই অপচয় হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, সরকারের অনুমোদিত ড্যাপে সড়কটি বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও ইস্টার্ন হাউজিং কর্তৃপক্ষ (আফতাবনগর) একতরফাভাবে দেয়াল ও গেট নির্মাণ করে জনগণের চলাচলের অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত একটি জনসাধারণের রাস্তা কোনো ব্যক্তি বা আবাসন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে বন্ধ করে দেওয়া আইন ও জনস্বার্থ—উভয়েরই পরিপন্থী বলে দাবি করেন তারা।
গত ১১ জুলাই আফতাবনগর–আলিফনগর সংযোগ সড়ক উন্মুক্তের দাবিতে বাড্ডার আফতাবনগর, আলিফনগর, আনন্দনগর ও ডিআইটি এলাকার সর্বস্তরের জনগণ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। এতে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
উক্ত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রাজউকের অনুমোদিত পরিকল্পনায় সড়কটি চালু থাকা সত্ত্বেও সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা নাগরিক অধিকার এবং বিদ্যমান নগর পরিকল্পনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। জনস্বার্থে সংযোগ সড়কটি উন্মুক্ত রাখতে এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানে তারা প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সংসদ সদস্য, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), রাজউক, জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাস্তবতা যাচাই এবং দ্রুত একটি ন্যায়সংগত ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বক্তারা বলেন, “১৯৮২ সালের চলাচলের রাস্তার আইন অনুযায়ী কেউ কারো রাস্তা বন্ধ করে দিতে পারে না। এটি জনগণের অধিকার পরিপন্থী। তারা অবিলম্বে দেয়াল ও গেট অপসারণ করে সড়কটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণারও হুঁশিয়ারি দেন।
উক্ত কর্মসূচিতে ডিআইটি, ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা সংহতি প্রকাশ করে বলেন, বহু বছর ধরে ব্যবহৃত একটি জনসাধারণের রাস্তা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছামতো বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ নেই। এই ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত আইনের শাসন ও নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী।
এদিকে, অভিযোগের বিষয়ে ইস্টার্ন হাউজিং কর্তৃপক্ষ (আফতাবনগর)-র বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাজউকের অনুমোদিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নেবে। অন্যথায় একটি প্রশাসনিক সমস্যাকে কেন্দ্র করে সামাজিক অস্থিরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
Shamiur Rahman
