কাঠমান্ডুতে তৃতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা সাংবাদিকতা সম্মেলন শুরু

শাহীন আব্দুল বারী প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬ ০৮:০৪ পিএম

বাংলাদেশ থেকে সাংবাদিক, শিক্ষক ও গবেষকসহ ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নিচ্ছে; অংশগ্রহণ ৩০ দেশের প্রতিনিধির

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী ‘তৃতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা সাংবাদিকতা সম্মেলন-২০২৬’।

রোববার (৯ আগস্ট) শুরু হওয়া এ সম্মেলন চলবে আগামী ১২ আগস্ট পর্যন্ত। বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশের সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও গবেষকরা এতে অংশ নিচ্ছেন।

এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য—“সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের জন্য আদিবাসী ভাষার সাংবাদিকতা”

বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে যারা

সম্মেলনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সার্ক জার্নালিস্ট ফোরাম (SJF) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের জেনারেল সেক্রেটারি এবং দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের হেড অব অনলাইন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া শিয়াবুর রহমান।

বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের প্রতিনিধি হিসেবে আরও অংশ নিচ্ছেন—দৈনিক বঙ্গবাণী সম্পাদক মুশতাক আহমেদ মুবারকী, দৈনিক আজকাল-র বিশেষ প্রতিনিধি মো. জিয়াউর রহমান, দৈনিক ব্যাংক বীমা অর্থনীতি'র সম্পাদক মোহাম্মদ মুনীরুজ্জামান, দৈনিক আজকের প্রভাতের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট মো. আবু বকর সিদ্দিক, দৈনিক অমর বাংলা'র নির্বাহী সম্পাদক পান্না জামান, সাংবাদিক শাহনাজ বেগম, চ্যানেল-এস টেলিভিশন ও এশিয়ান টিভির রিপোর্টার ইরফান উদ্দিন ইরো।

এ ছাড়া সার্ক জার্নালিস্ট ফোরামের সেন্ট্রাল কমিটির সেক্রেটারি জেনারেল মো. আবদুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ থেকে সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিনিধি দলের সঙ্গে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম ও মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের তিনজন প্রভাষকও রয়েছেন। তারা হলেন বিভাগের কো-অর্ডিনেটর জুবায়ের আহমেদ, কেয়া বোস ও ফরহাদ আলম।

আয়োজনে ফোনিজ, সহযোগিতায় সার্ক জার্নালিস্ট ফোরাম

বিশ্বের প্রায় ৩০ দেশের সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনের প্রধান আয়োজক ফেডারেশন অব নেপালি ইন্ডিজিনাস ন্যাশনালিটিজ জার্নালিস্টস (ফোনিজ)। সম্মেলনে সার্বিক সহযোগিতা করছে সার্ক জার্নালিস্ট ফোরাম (SJF)।

আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনের সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে তামাং, তমু গুরুং, লিম্বু, থারু, কিরাত রাই, শেরপা ও মাগার জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন। সম্মেলনের সমন্বয় করছে ন্যাশনাল ফোরাম অব নেওয়া জার্নালিস্টস।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশের মাতৃভাষাভিত্তিক সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও গবেষকরা অংশ নিচ্ছেন।

আলোচনায় মাতৃভাষা সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ

চার দিনব্যাপী সম্মেলনে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মাতৃভাষা সাংবাদিকতার বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা, প্রধান চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হবে। বিভিন্ন অধিবেশনে প্যানেল আলোচনা, গবেষণাপত্র ও কার্যপত্র উপস্থাপন করবেন দেশ-বিদেশের সাংবাদিক, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষ করে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতিকে গণমাধ্যমে তুলে ধরার ক্ষেত্রে মাতৃভাষাভিত্তিক সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হবে।

থাকছে সাংস্কৃতিক শোভাযাত্রা ও নেপাল ভ্রমণ

সম্মেলনের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক শোভাযাত্রার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি অতিথিদের নেপালের ঐতিহাসিক ও পর্যটনস্থান পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে। তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে দেশটির স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের।

আয়োজকদের মতে, এই সম্মেলন শুধু সাংবাদিকদের পারস্পরিক যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি করবে না; বরং বিশ্বের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, লিপি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মাতৃভাষা সাংবাদিকতায় নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা

আয়োজকদের মূল লক্ষ্য হলো মাতৃভাষা সাংবাদিকতার পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি, গণমাধ্যমে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষার ব্যবহার ও প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো এবং সরকারি নীতিনির্ধারণে মাতৃভাষাভিত্তিক সাংবাদিকতার গুরুত্ব প্রতিষ্ঠা করা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বায়নের দ্রুত বিস্তারের ফলে অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ভাষা অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে। এ অবস্থায় নিজস্ব ভাষায় সংবাদ ও তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা শুধু গণমাধ্যমের দায়িত্ব নয়, একই সঙ্গে ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। কাঠমান্ডুর এ সম্মেলন সেই প্রচেষ্টাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও জোরদার করবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

Shamiur Rahman

সম্পর্কিত