বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথম
খেলা শেষেও লাল কার্ড পেয়ে কলংকিত আর্জেন্টিনা
এটি এমন একটি ম্যাচ ছিল, যেখানে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি
স্পেনের বিপক্ষে পুরো ম্যাচজুড়ে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেনি লিওনেল মেসির দল। শুরু থেকেই স্পেনের চাপের মুখে পড়ে তারা। খেলার শেষ পর্যন্ত সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে যোগ্য দল হিসেবেই ১৬ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয় করলো স্প্যানিশরা।
আক্রমণে ছিল না ধার, মাঝমাঠে ছিল না নিয়ন্ত্রণ। শেষ পর্যন্ত শুধু শিরোপাই হাতছাড়া হয়নি, বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে আক্রমণাত্মক পরিসংখ্যানে স্মরণকালের সবচেয়ে বাজে রেকর্ড নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করে আর্জেন্টিনা।
তবে কলংক ও উত্তেজনা এখানেই থামেনি। এবার বিশ্বকাপ ফাইনালের নাটকীয় সমাপ্তির পরও শেষ বাঁশি বাজার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ঘটা সংঘর্ষ ঠিক পরমুহূর্তেই এক নিকৃষ্ট ঘটনার স্বাক্ষী হলো ফুটবলভক্তরা।
আরও পড়ুন: স্মরণকালের সবচেয়ে বাজে রেকর্ড নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করল আর্জেন্টিনা
স্প্যানিশ মিডফিল্ডার গাভির রহস্যময় এক মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।
ঘটনার সূত্রপাত হয় আর্জেন্টিনার এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে স্পেনের এরিক গার্সিয়ার কথা কাটাকাটি থেকে। কিছুটা দূরে থাকা পারেদেস দ্রুত সেখানে ছুটে এসে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন। এরপর দুই দলের আরও কয়েকজন খেলোয়াড় সেই উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েন।
টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, পারেদেস গাভির মুখেও আঘাত করেন। থিয়াগো আলমাদাকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে বার্সেলোনার এই মিডফিল্ডারকেও ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়।
ঘটনার সময় কয়েক মিটার দূরেই দানি ওলমো হাঁটু গেড়ে নিকো উইলিয়ামসকে আলিঙ্গন করে শিরোপা উদযাপন করছিলেন। ঠিক তখনই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। ম্যাচ শেষ হয়ে গেলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় রেফারি পারেদেসকে লাল কার্ড দেখান।
এই ঘটনার জেরে একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। শেষমেষ নিজেই মাঠে নেমে সরিয়ে নিয়ে যান তাকে।
এদিকে, ন্যাক্কারজনক এই ঘটনার পর ম্যাচ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে কঠোর সিদ্ধান্ত নেন রেফারি। সরাসরি শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে লাল কার্ড দেখানো হয় তাকে। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এরকম ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি। স্পেন কিংবা আর্জেন্টিনার ফুটবল ফেডারেশন এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
স্প্যানিশ সংবাদপত্র মার্কা জানিয়েছে, পারেদেস সবচেয়ে ঘৃণিত খেলোয়াড়দের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, মাঠে নামার পর থেকেই পারেদেস একাধিক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। বদলি হিসেবে নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই দানি ওলমোকে ধাক্কা দেওয়ার কারণে তিনি হলুদ কার্ড দেখেন। দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ের শেষ দিকে পেনাল্টি এলাকার ঠিক বাইরে আরেকটি ফাউল করলেও সে ঘটনায় রেফারি তাকে দ্বিতীয় কোনো কার্ড দেখাননি।
এটি এমন একটি ম্যাচ ছিল, যেখানে আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে প্রথম হলুদ কার্ড পান এনজো ফার্নান্দেজ। পরে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে পাউ কুবারসিকে অপ্রয়োজনীয় ফাউল করায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এই মিডফিল্ডার।
চোটও ভোগায় আর্জেন্টিনাকে। প্রথমার্ধের শেষদিকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ইনজুরিতে মাঠ ছাড়েন। দ্বিতীয়ার্ধে একই কারণে খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি ক্রিস্টিয়ান রোমেরোও।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোও চোটে পড়েন। তবে তখন আর্জেন্টিনা ইতোমধ্যে ১০ জনে নেমে গিয়েছিল এবং সব বদলি খেলোয়াড় ব্যবহার করে ফেলায় তাকে বাধ্য হয়ে মাঠেই খেলা চালিয়ে যেতে হয়।
Shamiur Rahman
